সুনামগঞ্জে সহীহ সুন্নাহের দাওয়াত

সুনামগঞ্জ জেলা ১২টি উপজেলা, ১২টি থানা, ৪টি পৌরসভা, ৮৮টি ইউনিয়ন, ও ৫টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত। ভাটি অঞ্চল বলে আখ্যায়িত সুনামগঞ্জ জেলায় বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মত সুফি-সাধকদের বিকৃত ও শিরক-বিদআতযুক্ত আকিদা ও আমলের চর্চা হয়ে থাকে।

মিডিয়া ও প্রযুক্তির যুগে প্রবাসী ভাই-বোনদের প্রচেষ্ঠা আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহের দাওয়াত আস্তে-আস্তে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। সুনামগঞ্জের এসব ভাটি অঞ্চলও বাদ যায় নি। ফালিল্লাহিল হামদ।

যুক্তরাষ্ট্র ফেরত একজন মুখলিস দ্বীনি ভাইয়ের প্রচেষ্ঠায় শাল্লা উপজেলায় একটি মাসজিদ সহীহ সুন্নাহ প্রচার ও প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। প্রতিকুল পরিবেশের জন্য আজোও পূর্ণতা লাভ করতে পারে নাই। চেষ্ঠা অব্যহত রয়েছে। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই।

ধর্মপাশা উপজেলা সদরে কিছু ভাইয়ের কাজ করছেন। এখনো উল্লেখ করা মত কিছু করা হয় নাই। সুখাই এলাকায়, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার কিছু ভাইয়ের চেষ্ঠা করছেন। একজন দ্বীনি ভাই ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় শিশুদের প্রথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলার কিছু ভাইদের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় তাহিরপুর সদরে একটি মাসজিদ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে। সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছেন জনৈক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সিলেট শহরের অধিবাসী ভাই ও সিলেটের তাকওয়া ফাউন্ডেশন কতৃপক্ষ। এ অঞ্চলের কিছু ভাইয়েরা কয়েক বছর থেকে ছোট-ছোট হালাকার মাধ্যমে দাওয়াতী কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। ইতিপূর্বে একটি পাঠাগারও প্রতিষ্থাপন করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের রামাদান মাসে মাসজিদ নির্মানের উদ্দোগ্য গ্রহণ করলে স্থানীয় কিছু উশৃংখল লোক মাসজিদের মালামাল লুপপাট করে নিয়ে যায়। বর্তমানে নির্মান কাজ বন্ধ রয়েছে।

শান্তিগঞ্জ এর জয়কলস এলাকায়, দিরাই এর ভাটিপাড়া, জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার এর বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং ছাতক উপজেলায় এলাকাসমূহে বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু ভাই ও বোনের বিশেষ করে প্রবাসী ভাই-বোনদের উৎসাহ উদ্দিপনায় সহীহ সুন্নাহের দাওয়াতী কার্যক্রম বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার প্রতিষ্ঠা লাভ করছে নান বাধা ও প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে।

নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করে, পরামর্শের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করলে আল্লাহর ইচ্ছায় আরোও পজিটিভ রিজাল্ট পাওয়ার সুযোগ ছিল।

ছাতকের জাউয়া এলাকার কৈতকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী একটি পরিবারের উদ্যোগে সিলেট সুনামগঞ্জ মহাসড়কের সাথেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মাসজিদে আবু বকর (রা.)। সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে মহিলাদের সালাত আদায়ের সুব্যবস্থা রয়েছে। আল্লাহর কাছে উদ্যোগক্তাদের জন্য দুনিয়া-আখেরাতের কল্যাণ কামনা করছি। প্রতিকুল পরিবেশে সৌদি ফেরত মুহতারাম আলী আহমদ ভাই ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

জাহিদপুর, বরাটুকা, জিগলী, কুর্শি, সিংগেরকাছ এলাকায় দেশী-প্রবাসী কিছু ভাইয়েরা নানা ধরণের বাঁধা বিপত্তির মধ্য দিয়ে নিজেদের জীবনের কুরআন-সুন্নাহ বাস্তবায়নের প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। পীর-পুরহিতদের প্রভাব পুরো সুনামগঞ্জ অঞ্চলে অত্যান্ত প্রকোট।

সুনামগঞ্জ শহরের যুক্তরাজ্য প্রবাসী জুয়েল ভাই ও তাঁর আত্নীয়দের উদ্দ্যোগে শহরের পূর্ব হাসন নগর এলাকায় তালুকদারবাড়ীর সাথেই সহীহ সুন্নাহের মাসজিদ স্থাপন করে পরিচালনা করছেন। আলহামদুল্লিাহ। বর্তমানে সেখানে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার সর্বত্নক চেষ্ঠা চলছে। আল্লাহ সহজ করে দিন। কবুল করুন।

২০২০ সাথে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব হাসন নগরের মাসজিদটি স্থানীয় দেওবন্দীদের একটি অংশ দখলের পায়তারা করে। মাসজিদের পাশে প্রতিবাদ সভা আহবান করে। প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষন করলে সভাটি পন্ড হয়ে যায়। ফালিল্লাহিল হামদ।

শহরের সম্ভ্রান্ত পরিবারের ব্যবসায়ী স্থায়ীভাবে ঢাকা অবস্থান করেন সামুদ্দীন ভাই। উনার বহুদিনের স্বপ্ন হচ্ছে শহরের মধ্যখানে একটি সহীহ সুন্নাহের কমপ্লেক্স। সেই লক্ষ্যে বহুপূর্ব হতে নৈসর্গ হাসন নগর এলাকায় নিজ বাড়ীর পাশে জমি দান করে রেখেছেন। সেই জমির উপর সিলেটের আত-তাক্বওয়া মাসজিদের অর্থায়ণে স্থানীয় দ্বীনী ভাইদের সার্বিক সহযোগিতায় টিনসেড মাসজিদ আল-গুরাবা স্থাপন করা হয়। নানা বাধা বিপত্তির মধ্য দিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রসাশনের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত মাসজিদের কার্যক্রম চালু হয়। মাসজিটিতে মহিলাদের সালাত আদায়ের সুব্যবস্থা প্রথম থেকেই রয়েছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন ঐলাকায় কিছু ভাইয়েরা প্রতিকুল পরিবেশে বহু বাধা উপেক্ষা করে নিপিড়ন-নির্যাতনের মধ্যদিয়ে শিরক-বিদআতমুক্ত ইসলামের দাওয়াতী কাজ করে চলেছেন। এসব অঞ্চলে সহীহ সুন্নাহের প্রচার-প্রতিষ্ঠায় প্রধান বাধা হচ্ছে উগ্রপন্থি কিছু দেওবন্দিপন্থী আলেম নামধারীরা।

কিছু প্রবাসী সহীহ সুন্নাহের অনুসারীদের দেশের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে গভীর নলেজ না থাকার ফলে প্রবাস থেকে সোস্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন ধরণের লিখনী ও পোষ্টের মাধ্যমে মাঝে-মধ্যে স্থানীয় দাওয়াতী পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেন। এসব লিখনী বা পোষ্টসমূহ দেশে বসবাসকারীদের জন্য নির্যাতন-নিপিড়নের কারণ হয়ে উঠে। প্রবাসী সহীহ সুন্নাহের অনুসারীদের প্রতি পরামর্শ থাকবে দাওয়াতী ক্ষেত্রে সব ধরণের উগ্রতা পরিহার করুন। উত্তম আখলাকের মাধ্যেমে পরিবার ও সমাজে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করুন। তাড়াহুড়া করবেন না। সবর করুন। হিকমতের সাথে, প্রজ্ঞার সাথে দাওয়াতী ময়দানে কাজ করুন। আলেমদের সাথে, স্থানীয় দায়ীদের সাথে যোগযোগ করে কর্মপরিকল্পনা করুন। দুর থেকে বসে দাওয়াতী পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কথা, কাজ, পোষ্ট পরিহার করুন। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। বুঝ দান করুন।

জানা-অজানা বহু ভাই-বোন ভাটি অঞ্চলে কুরআন-সুন্নাহকে প্রচার ও প্রতিষ্ঠার ইকামতে দ্বীনের কাজ করে যাচ্ছেন, আল্লাহ সবাই হিকমতের সাথে প্রজ্ঞার সাথে দাওয়াতী কাজ করার তাওফিক দান করুন। নবী-রাসূল ও সালাফে সালেহীন এর মানহায ফলো করে নিজেদের জীবন গড়ার ও দাওয়াতী কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমাদের সকল নেক প্রচেষ্ঠা কবুল করুন। আমীন।